যৌতুকের খাড়ায় বলী হচ্ছেন বাবা এবং মেয়ে/যৌতুক হচ্ছে সামাজিক ব্যাধি/সমাজ এবং শ্রেণী ভেদে যৌতুকের হার
যৌতুকের খাড়ায় বলী হচ্ছেন বাবা এবং মেয়ে/যৌতুক হচ্ছে সামাজিক ব্যাধি/সমাজ এবং শ্রেণী ভেদে যৌতুকের হার
| Dowry Picture |
আপনারা জানেন তো ধর্মের চোখে যৌতুক দেওয়া নেওয়া মহা পাপ । আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে যৌতুক দেওয়া নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ । কিন্তু একটা বিষয় মানেন তো প্রচলিত সমাজ, এর কোন কিছুই তোয়াক্কা করে না । ছেলের বাবা অপেক্ষায় থাকেন, ছেলেকে বিয়ে দিলে অনেক অনেক টাকা পাবেন । আর মেয়ের বাবাও যৌতুকটাকে সামাজিক নিয়ম ভেবে যৌতুক দিয়ে থাকেন । যে কোন উপায়ে টাকা যোগাড় করে অপেক্ষা করে থাকেন, আর উসখুস করেন কখন টাকাগুলো ছেলের বাবাকে দিয়ে শান্তি পাবেন । মেয়ের বাবা ভাবেন অনেক অনেক টাকা দিতে পারলে মেয়ের জন্য পাবেন ভালো ঘর ভালো বর । ভবিশ্বতে মেয়ের হবে মঙ্গল । কিন্তু আপনারাই বলুন তো, এই মঙ্গলকারক ঘটনা সব সময় ঘটে কি ? অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটতে দেখা যায় । ছেলের বাবা যৌতুক নেবেন না । কিন্তু সেখানে দেখা যায় অন্য এক চিত্র । ছেলের বাবা বলে থাকেন আমি ছেলের বিয়েতে যৌতুক নেবো না । তবে হ্যাঁ বেয়াই মশাই যদি খুশি করে ওনার মেয়ে জামাইকে সাজিয়ে দেন, মেয়ের ঘর সাজিয়ে দেন, তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই । তখন মেয়ের বাবাও ভাবেন শুকনো হাত কি আর গলায় নামে । এক কথায় যৌতুক প্রথা এখন রং বদলে হয়ে উঠেছে সমাজের আধুনিক রীতি । আমার মনে হয় এই আধুনিক যৌতুক রীতি থেকে মানব জাতি কখনও কোন দিনও বেরিয়ে আসতে পারবে না । এর পরিপ্রেক্ষিতে এক কথায় বলা যায় মেয়ের জন্ম দেওয়া মহা পাপ । কিন্তু আপনারাই বলুন তো, কোনো বাবা-মা তার সন্তানকে জন্ম দেওয়ার আগে কি বলতে পারবেন, আমার এই আগত সন্তানটি মেয়ে হবে ।যাই হোক আর বেশি কিছু বলতে চাই না । আমাদের উত্তর বঙ্গের সমাজে তো খোলামেলা ভাবেই যৌতুক দেওয়া নেওয়া চলছে । তাই আমি আমাদের এই উত্তর বঙ্গের ছেলে-মেয়ের যোগ্যতা অনুযায়ী যৌতুকের হারটা আপনাদের সামনে সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে তুলে ধরলাম ।
১। যারা দিন মজুর, বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিক এবং ভ্যান চালক যৌতুক পাবেন= ১
লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা ।
২। যারা নিম্ন শ্রেণীর কৃষক থেকে উচু শ্রেনীর কৃষক যৌতুক পাবেন= ২ লক্ষ থেকে
৭/৮ লক্ষ টাকা ।
৩। যারা চাকুরীজিবীর বা অবস্থা আছে এমন মানুষের বেকার ছেলেরা যৌতুক
পাবেন= ৫ লক্ষ থেকে ৬/৭ লক্ষ টাকা ।
৪। যারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন তারা যৌতুকের বদলে যে মেয়ে
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করে এমন মেয়ে খোজেন, না হলে যৌতুক
হিসাবে পাবেন=১০ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকা ।
৫। যারা বেসরকারী কলেজে অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন তারাও চাকুরীজিবী মেয়ে
খোজেন, না পেলে তারা যৌতুক পাবেন=১৫ লক্ষ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা ।
৬। যারা সরকারী কলেজে অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন তারাও চাকুরীজিবী মেয়ে
খোজেন, না পেলে তারা যৌতুক পাবেন=১৮ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ।
৭। আর যারা সরকারী অন্যকোন সরকারী ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করেন তারা যৌতুক পাবেন=২০
লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ।
আমার এই যৌতুকের হারটা নির্ধারনের একটু কম বা বেশি হতে পারে । সেটা নির্ভর করে মেয়ের সুন্দরী হওয়া না হওয়া এবং দু-পক্ষের আলোচনার উপর । দেখুন ব্যাপারটা কতবড় ভয়ানক । তাই আসুন সবাই মিলে যৌতুককে না বলি । নারী সমাজকে সন্মান করি । তা না হলে কোন একদিন হয়তো বা এই মনুষ্য জাতির বিলুপ্তি ঘটবে । শুধুই থাকবে মানুষ নামের এক প্রজাতির জীব ।

No comments